শুক্রবার । ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৬ই মাঘ, ১৪৩২

কিউবাকে তেল দেয়া দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত এই দেশটিকে তেল সরবরাহ করে এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পথ খুলে দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং কিউবাকে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করে এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো কিউবার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানো। মূলত দেশটির কর্মকাণ্ড ও নীতিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে বর্ণনা করছে। প্রশাসনের দাবি, কিউবার এসব কার্যকলাপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থের পরিপন্থি।

নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিককে শুল্ক আরোপ ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিধিমালা ও নির্দেশনা জারি করাও অন্তর্ভুক্ত আছে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, কিউবা বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে হুমকি কমাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ নেয় অথবা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে প্রেসিডেন্ট চাইলে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন বা শিথিল করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন কিউবার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতা পর্যালোচনা করছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলার সমর্থন কমে যাওয়ার পর কিউবার অবস্থান আরও নাজুক হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র অপহরণ করার পর পরিস্থিতি আরও বদলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কিউবার অর্থনীতি ধসে পড়ার কাছাকাছি। আর এই অবস্থা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় কিউবান সরকারকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এদিকে, কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুঁজতে মার্কিন কর্মকর্তারা কিউবান নির্বাসিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। আর এর উদ্দেশ্য হলো সরকারের ভেতরে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যারা রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী হতে পারেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন